সংঘর্ষে উত্তপ্ত ঢামেক জরুরি বিভাগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈঠক
প্রেসক্লাবের সামনে সংঘর্ষের জেরে হাসপাতালে উত্তেজনা; অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈঠক হাসপাতাল পরিচালকের

তৃণমূল ২৪ ডেস্ক | ঢাকা | প্রকাশিত: ৪ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় সাময়িকভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুটি পক্ষের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলে সেখানে আবারও উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের কারণে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসাসেবা চালু হলেও পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সেবা আবারও ব্যাহত হয়। এ সময় রোগী, স্বজন এবং চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, ভাইস চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনির জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাপ মণ্ডল ও হরিদাস সরকার রয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসসহ সংগঠনটির আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নতুন ধারা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রেসক্লাব এলাকায় তাদের কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে আবারও তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রেসক্লাব এলাকায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং পরে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সময় জরুরি বিভাগের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে চিকিৎসাসেবা দ্রুত চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংঘর্ষের কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।



